ঘর থেকে তেলাপোকা দূর করার কার্যকর উপায়: রান্নাঘর, বাথরুম ও ড্রেনের জন্য বাস্তব গাইড
তেলাপোকা দেখা মানে শুধু অস্বস্তি না, অনেক সময় এর পেছনে থাকে খাবার, পানি, আর্দ্রতা আর লুকানোর নিরাপদ জায়গা। তাই ঘর থেকে তেলাপোকা দূর করার উপায় খুঁজতে গেলে একা স্প্রে করলেই হয় না। আগে উৎস ধরতে হয়, তারপর খাবার ও পানির সুযোগ বন্ধ করতে হয়, আর শেষে ফাঁকফোকর সিল করতে হয়। এই তিনটি কাজ ঠিকভাবে করলে বেশিরভাগ ঘরে তেলাপোকার চাপ দ্রুত কমে।

সবচেয়ে কার্যকর শুরুটা হলো এই চারটি কাজ একসঙ্গে করা। এক, রাতের বেলা কোথায় বেশি দেখা যায় তা চিহ্নিত করুন। দুই, খোলা খাবার, ভেজা সিঙ্ক, আবর্জনা আর কার্ডবোর্ড সরান। তিন, রান্নাঘর ও বাথরুমে জেল বেইট বা স্টিকি ট্র্যাপ বসান। চার, ফাটল, পাইপের চারপাশ আর ড্রেনের আশপাশ সিল করুন। এই ক্রমে কাজ করলে আপনি শুধু দেখা তেলাপোকা নয়, তাদের থাকার পরিবেশও ভেঙে দেন।
আগে বুঝুন: তেলাপোকা কোথা থেকে আসছে
তেলাপোকা সাধারণত সেই জায়গায় থাকে যেখানে খাবারের কণা, পানি আর অন্ধকার একসঙ্গে মেলে। বাংলাদেশি ঘরে সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা যায় রান্নাঘর, বাথরুম, সিঙ্কের নিচ, ফ্রিজের পেছন, ড্রেন, আলমারির কোণা আর পুরোনো কার্ডবোর্ডের ভেতরে। যদি আপনি শুধু মেঝেতে হাঁটতে দেখা তেলাপোকা মারেন, কিন্তু এই জায়গাগুলো না দেখেন, তাহলে সমস্যা বারবার ফিরে আসবে।
রাতে আলো নিভিয়ে ১০–১৫ মিনিট পরে টর্চ নিয়ে দেখুন। সিঙ্কের নিচে, গ্যাসের চুলার পাশে, ডাস্টবিনের পেছনে, ওয়াশবেসিনের নিচে আর দেয়ালের কোণায় খেয়াল করুন। ছোট কালো দাগ, খোসা, দুর্গন্ধ বা এক জায়গায় একাধিক তেলাপোকা দেখা গেলে বুঝবেন সেখানে বাসা বা চলাচলের রাস্তা আছে। ড্রেন থেকে উঠলে ধরে নিন আর্দ্রতা আর ফাঁক দুটোই সমস্যা করছে।
যে জিনিসগুলো বাড়ির ভেতরে তেলাপোকার সংখ্যা বাড়ায়, সেগুলো হলো খোলা খাবার, রাতভর পড়ে থাকা বাসন, ভেজা কাপড়, সিঙ্কে জমে থাকা পানি, আর পুরোনো কাগজ বা কার্ডবোর্ড। আলমারিতে শুকনা খাবার খোলা থাকলে, বা চাল-ডাল পাতলা প্যাকেটে থাকলে তেলাপোকার জন্য সেটা সহজ উৎস হয়ে যায়।
যা লাগবে: আগে জোগাড় করে নিন
কাজ শুরু করার আগে কিছু জিনিস হাতের কাছে রাখুন। এতে বারবার থামতে হবে না, আর নিরাপদভাবে কাজও করা যাবে।
- স্টিকি ট্র্যাপ বা আঠালো ফাঁদ।
- তেলাপোকা জেল বেইট।
- বোরিক অ্যাসিড বা বোরিক পাউডার।
- বেকিং সোডা।
- সাবান-পানি বা হালকা ডিটারজেন্ট মেশানো পানি।
- সিল্যান্ট, ককিং গানের মতো ফাঁক বন্ধ করার উপকরণ, বা দরকার হলে সিলিকন।
- গ্লাভস।
- ময়লা ফেলার ব্যাগ।
- টর্চলাইট।
শিশু বা পোষা প্রাণী থাকলে আগে থেকেই ঠিক করুন কোন জায়গায় কী রাখবেন। বেইট আর বোরিক অ্যাসিড কখনোই খোলা রেখে দেবেন না। খাবার তৈরির টেবিল, রান্নার পৃষ্ঠ বা বাসন ধোয়ার জায়গায় কীটনাশক ছিটানো উচিত নয়।
ধাপে ধাপে করুন: প্রথম ২৪ ঘণ্টার কর্মপদ্ধতি
১) খাবার আর পানি বন্ধ করুন
রাতের খাবার শেষে বাসন ধুয়ে ফেলুন। সিঙ্কে পানি জমতে দেবেন না। প্যাকেট খোলা খাবার কাঁচের জার, শক্ত ঢাকনাওয়ালা বক্স বা সিল করা পাত্রে রাখুন। পোষা প্রাণীর খাবার থাকলে রাতে তুলে রাখুন। তেলাপোকা খাবারের গন্ধ পেলে বারবার একই জায়গায় আসবে।
২) ভেজা জায়গা শুকনো করুন
সিঙ্কের নিচে লিক আছে কি না দেখুন। বাথরুমে মেঝে ভেজা থাকলে মুছে ফেলুন। ড্রেনের চারপাশে পানি জমতে দেবেন না। আর্দ্রতা কমলে তেলাপোকার টিকে থাকা কঠিন হয়।
৩) পরিষ্কার করে লুকানোর জায়গা কমান
কার্ডবোর্ড, পুরোনো কাগজ, অপ্রয়োজনীয় প্যাকেট আর ভাঙা জিনিস সরান। আলমারির কোণ, সিঙ্কের নিচ, ফ্রিজের পেছন পরিষ্কার করুন। তেলাপোকা সরু, অন্ধকার আর কম নাড়াচাড়া হওয়া জায়গা পছন্দ করে।
৪) ফাঁদ বসান
স্টিকি ট্র্যাপ রান্নাঘরের কোণা, সিঙ্কের নিচ, ফ্রিজের পাশে, বাথরুমের ড্রেনের কাছাকাছি রাখুন। এতে আপনি বুঝতে পারবেন কোথায় বেশি চলাচল হচ্ছে। ফাঁদ শুধু ধরার জন্য না, উৎস চিহ্নিত করার জন্যও কাজে লাগে।
৫) জেল বেইট ব্যবহার করুন
জেল বেইট সাধারণত স্প্রের চেয়ে বেশি কাজে দেয়, কারণ তেলাপোকা বেইট খেয়ে বাসায় ফিরে কলোনিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ব্যবহার করার আগে অবশ্যই পণ্যের লেবেল পড়ুন, নির্দেশনা মেনে চলুন, আর খাবার থেকে দূরে রাখুন। দেয়ালের কোণা, ক্যাবিনেটের পেছন, সিঙ্কের নিচ, চুলার পাশে, ফাটলের ধার ঘেঁষে ছোট ছোট দানা বা বিন্দুর মতো দিন। খাবারের পাশে দেবেন না। আর স্প্রে করা জায়গার সঙ্গে একসঙ্গে ব্যবহার করবেন না, কারণ স্প্রে বেইটের কাজ কমিয়ে দিতে পারে।
৬) ফাটল ও ফাঁক সিল করুন
পাইপের চারপাশ, দেয়ালের ফাটল, টাইলসের ফাঁক, দরজার নিচের ফাঁক—এসব দিয়ে তেলাপোকা ঢোকে। যেখানে সম্ভব সিল্যান্ট দিয়ে বন্ধ করুন। ড্রেন কভার ঠিক আছে কি না দেখুন। এই ধাপটা অনেকেই বাদ দেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটিই পুনরায় ঢোকা কমায়।
৭) ৩–৭ দিন পর্যবেক্ষণ করুন
প্রথম দিনেই সব তেলাপোকা চলে যাবে, এমন আশা করবেন না। হালকা সংক্রমণে কয়েক দিনের মধ্যে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বড় সংক্রমণে কয়েক সপ্তাহও লাগতে পারে। ফাঁদে সংখ্যা কমছে কি না দেখুন। যদি একই জায়গায় বারবার ধরা পড়ে, সেখানে ট্র্যাপ বা বেইটের অবস্থান বদলান। ফল না পেলে বুঝবেন উৎসের কাছাকাছি পৌঁছাননি।
এক নজরে কোন পদ্ধতি কেমন কাজ করে
| পদ্ধতি | কাজের গতি | কার্যকারিতা | নিরাপত্তা | কোথায় ভালো |
|---|---|---|---|---|
| ঘরোয়া প্রতিকার | ধীরে | হালকা সংক্রমণে সহায়ক | উপাদানভেদে ভিন্ন | ছোট সমস্যা, সহায়ক পদক্ষেপ |
| জেল বেইট | মাঝারি | লুকানো কলোনিতে ভালো | সঠিকভাবে ব্যবহার করলে তুলনামূলক নিরাপদ | রান্নাঘর, ফাঁক, ক্যাবিনেট |
| স্প্রে | দ্রুত দেখা যায় এমন পোকায় | লুকানো বাসায় সীমিত | সতর্কতা বেশি দরকার | তাৎক্ষণিক দমন |
| স্টিকি ট্র্যাপ | ধীরে | ধরতে ও বুঝতে কাজে দেয় | সাধারণত নিরাপদ | পর্যবেক্ষণ ও হালকা নিয়ন্ত্রণ |
| সিলিং | ধীরে | দীর্ঘমেয়াদে খুব গুরুত্বপূর্ণ | নিরাপদ | ফাটল, পাইপ, দরজা, ড্রেন |
ঘরোয়া প্রতিকার বনাম বাজারের কীটনাশক
সব ঘরে এক পদ্ধতি কাজ করে না। তাই সিদ্ধান্তটা পরিস্থিতি দেখে নিন।
বোরিক অ্যাসিড বা বোরিক পাউডার
বোরিক অ্যাসিড বা বোরিক পাউডার কিছু ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে, তবে এটা খুব সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হয়। শিশু ও পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে, একদম পাতলা স্তরে, শুধু ফাটল, দেয়ালের ফাঁক, ক্যাবিনেটের পেছন বা এমন লুকানো পথে দিন যেখানে খাবার বা পানি নেই। মেঝেতে খোলা অবস্থায় ছড়িয়ে দেবেন না। খাবারের পাত্র, রান্নার পৃষ্ঠ, বাসন ধোয়ার জায়গা বা যেখানে বাচ্চারা খেলতে পারে, সেখানে দেবেন না।
লোকমুখে আটা বা ময়দার গুঁড়ার সঙ্গে মিশিয়ে ছড়ানোর কথা শোনা গেলেও, নিরাপত্তার দিক থেকে এটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই এমন মিশ্রণ খোলা অবস্থায় ব্যবহার না করাই ভালো। যদি ব্যবহার করতেই হয়, পণ্যের লেবেল দেখে, খুব সীমিত পরিমাণে এবং লক্ষ্যভিত্তিক জায়গায় দিন।
বোরিক পাউডার ও ঘরোয়া ব্যবহার নিয়ে একটি উদাহরণ
বেকিং সোডা
কিছু মানুষ বেকিং সোডা ব্যবহার করেন, কিন্তু এটিকে নিশ্চিত সমাধান বলা ঠিক হবে না। ছোটখাটো সহায়ক হিসেবে ভাবতে পারেন, তবে বড় সংক্রমণে একে ভরসা করা উচিত নয়।
সাবান-পানি
সাবান-পানি তেলাপোকা ধরতে বা তাৎক্ষণিকভাবে দুর্বল করতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু এটি বাসা ধ্বংস করে না। তাই এটা শুধু সহায়ক টুল, মূল সমাধান না।
জেল বেইট
যদি রান্নাঘর বা আলমারিতে নিয়মিত তেলাপোকা দেখেন, জেল বেইট সাধারণত বেশি কার্যকর সিদ্ধান্ত। কারণ এটি লুকানো জায়গায় কাজ করে এবং বারবার স্প্রে করার চেয়ে কম ঝামেলার হতে পারে। তবে সঠিক জায়গায় না দিলে ফল কমে যায়।
স্প্রে
স্প্রে দ্রুত দেখা যায় এমন তেলাপোকা কমাতে পারে। কিন্তু এতে অনেক সময় তেলাপোকা ছড়িয়ে পড়ে বা লুকিয়ে যায়। খাবারের কাছাকাছি, বাসন ধোয়ার পৃষ্ঠে বা বাচ্চাদের ঘরে স্প্রে ব্যবহার করলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই স্প্রে শেষ ভরসা হিসেবে ভাবাই ভালো, প্রথম পছন্দ নয়।
স্টিকি ট্র্যাপ
ফাঁদ নিজে সমস্যা মেটায় না, কিন্তু কোথায় বেশি চলাচল হচ্ছে তা বুঝতে অসাধারণ কাজে লাগে। সংক্রমণ কম না বাড়ছে, সেটাও এই ফাঁদে বোঝা যায়।
রান্নাঘর, বাথরুম আর ড্রেনে আলাদা করে কী করবেন
রান্নাঘর
রান্নাঘরে খাবার, তেল আর উষ্ণতা বেশি থাকে। তাই এখানে প্রথম কাজ হলো খাবার সিল করা, চুলার পাশে জমে থাকা তেল মুছা, আর সিঙ্ক শুকনো রাখা। ক্যাবিনেটের পেছন আর ফ্রিজের নিচে জেল বেইট দিন। খোলা ময়লা বা বাসন রাতভর রাখবেন না।

বাথরুম
বাথরুমে আর্দ্রতা বড় সমস্যা। ফ্লোর ড্রেন, কমোডের পেছন, ওয়াশবেসিনের নিচ আর পাইপের ফাঁক দেখুন। পানি জমে থাকলে মুছে ফেলুন। বাথরুমে স্প্রে দেওয়ার আগে ভাবুন, কারণ ভেজা পরিবেশে অনেক পদ্ধতির কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
ড্রেন
ড্রেন থেকে তেলাপোকা উঠলে শুধু ওপরে ওষুধ দিলে হবে না। ড্রেন কভার ঠিক আছে কি না দেখুন, নিয়মিত পরিষ্কার করুন, আর আশেপাশের ফাঁক বন্ধ করুন। রাতে ড্রেন শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। যদি ড্রেনের ভেতর থেকে নিয়মিত উঠে আসে, তাহলে এটা প্লাম্বিং বা স্যানিটেশন সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। তখন পেশাদার সাহায্য লাগতে পারে।
আলমারি
আলমারিতে পুরোনো কাগজ, কার্ডবোর্ড, খোলা শুকনা খাবার বা কাপড়ের ভাঁজে জমে থাকা ময়লা থাকলে তেলাপোকা লুকাতে পারে। সব বের করে মুছুন, শুকনো রাখুন, আর খাবার আলাদা করে সিল করুন। আলমারিতে হালকা ফাঁদ রাখা যেতে পারে, তবে খাবারের পাশে নয়।
শিশু ও পোষা প্রাণী থাকলে নিরাপদভাবে কী করবেন
শিশু বা পোষা প্রাণী থাকলে নিরাপত্তা আগে। বেইট, বোরিক অ্যাসিড বা স্প্রে তাদের নাগালের বাইরে রাখুন। খোলা পাউডার মেঝেতে ছড়িয়ে দেবেন না, বিশেষ করে যেখানে তারা হাঁটে বা খেলে। রান্নার পৃষ্ঠে সরাসরি কীটনাশক ব্যবহার করবেন না। যদি স্প্রে ব্যবহার করতেই হয়, ঘর বাতাস চলাচলযোগ্য রাখুন এবং লেবেলের নির্দেশনা মেনে চলুন।
এমন বাড়িতে সাধারণত জেল বেইট, ফাঁদ আর সিলিংকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো। কারণ এগুলো তুলনামূলকভাবে লক্ষ্যভিত্তিক, আর খাবারের সংস্পর্শ কম হয়। তবে কোনো পণ্য ব্যবহার করার আগে লেবেল পড়া জরুরি।
সাধারণ ভুলগুলো যা কাজ আটকে দেয়
অনেকেই শুধু স্প্রে করেন, কিন্তু খাবার-জল বন্ধ করেন না। আবার কেউ বেইট দেন, কিন্তু পাশেই স্প্রে করেন। এতে তেলাপোকা বেইট এড়িয়ে যায়। অনেকে ফাটল বন্ধ না করেই প্রতিদিন কয়েকটা মেরে ফেলেন। এতে মূল রাস্তা খোলা থাকে।
আরেকটি বড় ভুল হলো ধারাবাহিকতা না রাখা। একদিন পরিষ্কার করে দুই সপ্তাহ না দেখলে তেলাপোকা আবার বাড়তে পারে। তাই পর্যবেক্ষণ, পরিষ্কার আর সিলিং—এই তিনটি একসঙ্গে চলতে হবে।
ফল না পেলে কী করবেন
যদি ৭–১০ দিনের মধ্যে ফাঁদে ধরা কম না পড়ে, বা রাতের বেলা আগের মতোই তেলাপোকা দেখা যায়, তাহলে কৌশল বদলান। প্রথমে দেখুন বেইট কি সঠিক জায়গায় আছে। তারপর খাবার-পানির উৎস কি সত্যিই বন্ধ হয়েছে। এরপর ফাঁকফোকর ঠিকমতো সিল হয়েছে কি না দেখুন।
যদি একাধিক ঘরে সমস্যা থাকে, বা ড্রেন-ওয়াল-ক্যাবিনেট জুড়ে চলাচল দেখা যায়, তাহলে নিজে সমাধান করার চেষ্টা দীর্ঘায়িত না করে লাইসেন্সধারী পেস্ট কন্ট্রোল বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়াই ভালো। কারণ বড় সংক্রমণে এক জায়গার চিকিৎসা যথেষ্ট হয় না।
আবার না আসার জন্য প্রতিরোধমূলক রুটিন

তেলাপোকা কমে গেলে কাজ শেষ হয় না। প্রতিদিনের ছোট অভ্যাসই আবার ফিরে আসা ঠেকায়।
- রাতের খাবারের পর রান্নাঘর শুকনো করুন।
- খোলা খাবার সিল করা পাত্রে রাখুন।
- আবর্জনা প্রতিদিন বের করুন।
- সিঙ্কে পানি জমতে দেবেন না।
- কার্ডবোর্ড ও অপ্রয়োজনীয় কাগজ কম রাখুন।
- মাসে একবার ফাঁকফোকর, ড্রেন আর ক্যাবিনেট দেখে নিন।
- ফাঁদ রেখে মাঝে মাঝে পর্যবেক্ষণ করুন।
এই রুটিন মানলে সমস্যাটা নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়। বিশেষ করে ভাড়াবাড়ি, পুরোনো বাসা বা নিচতলার ফ্ল্যাটে এটি বেশি কাজে দেয়।
বাস্তব উদাহরণ: কোন পরিস্থিতিতে কী করবেন
রান্নাঘরের সিঙ্কের নিচে রাতে ২–৩টা তেলাপোকা দেখলে আগে খাবার-জল বন্ধ করুন, তারপর সিঙ্কের নিচে জেল বেইট দিন, আর পাইপের ফাঁক সিল করুন।
বাথরুমের ড্রেন থেকে মাঝে মাঝে উঠলে ড্রেন কভার পরীক্ষা করুন, আশপাশ শুকনো রাখুন, আর ফাঁদ বসান।
আলমারিতে পুরোনো কার্ডবোর্ড আর খোলা শুকনা খাবার থাকলে সেগুলো সরিয়ে দিন, আলমারি মুছে শুকনো করুন, তারপর কোণায় ট্র্যাপ রাখুন।
একাধিক ঘরে প্রতিদিন তেলাপোকা দেখা গেলে সেটা আর হালকা সমস্যা নেই। তখন লাইসেন্সধারী পেস্ট কন্ট্রোল বিশেষজ্ঞের কথা ভাবুন।
কখন একজন লাইসেন্সধারী পেস্ট কন্ট্রোল বিশেষজ্ঞ ডাকবেন
যখন সংক্রমণ একাধিক ঘরে ছড়ায়, নিজেরা নিয়ন্ত্রণে আসে না, বা শিশুর ঘর, রান্নাঘর ও ড্রেন একসঙ্গে আক্রান্ত হয়, তখন বিশেষজ্ঞ ডাকা ভালো। বিশেষ করে যদি আপনি নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় থাকেন, বা বারবার একই সমস্যা ফিরে আসে, তাহলে দেরি না করাই ভালো। পেশাদার পেস্ট কন্ট্রোল উৎস, লুকানোর জায়গা আর ট্রিটমেন্টের ধরন মিলিয়ে কাজ করতে পারেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ঘর থেকে তেলাপোকা দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় কী?
একটি পদ্ধতিতে নয়, তিনটি জিনিস একসঙ্গে করলে ভালো ফল মেলে। খাবার-পানি বন্ধ করা, জেল বেইট বা ফাঁদ ব্যবহার করা, আর ফাটল সিল করা।
শুধু স্প্রে দিলেই কি তেলাপোকা চলে যাবে?
না, সাধারণত যাবে না। স্প্রে দ্রুত দেখা যায় এমন পোকা কমাতে পারে, কিন্তু লুকানো বাসা ও ঢোকার পথ বন্ধ না করলে সমস্যা ফিরে আসে।
বোরিক অ্যাসিড কি নিরাপদ?
সাবধানে ব্যবহার করলে কাজে লাগতে পারে, কিন্তু শিশু ও পোষা প্রাণীর নাগালে রাখা যাবে না। খাবারের পৃষ্ঠে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
বেকিং সোডা কি সত্যিই কাজ করে?
কিছু মানুষ ব্যবহার করেন, তবে একে নিশ্চিত সমাধান বলা যায় না। ছোট সহায়ক হিসেবে ভাবতে পারেন, মূল সমাধান হিসেবে নয়।
তেলাপোকা বেশি থাকে কোথায়?
রান্নাঘর, বাথরুম, সিঙ্কের নিচ, ড্রেন, ফ্রিজের পেছন, আলমারির কোণা আর পুরোনো কার্ডবোর্ডে।
কত দিনে ফল দেখা যায়?
এটা পরিস্থিতিভেদে বদলায়। হালকা সংক্রমণে কয়েক দিনের মধ্যে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বড় সংক্রমণে কয়েক সপ্তাহও লাগতে পারে।
কখন পেশাদার সাহায্য নেব?
যদি একাধিক ঘরে তেলাপোকা থাকে, বারবার ফিরে আসে, বা নিজে চেষ্টা করেও কমে না, তখন লাইসেন্সধারী পেস্ট কন্ট্রোল বিশেষজ্ঞ ডাকুন।
ন্যাপথলিন কি তেলাপোকা তাড়ায়?
এটি নিরাপদ বা নির্ভরযোগ্য সমাধান হিসেবে ভাবা ঠিক নয়। শিশু ও পোষা প্রাণীর জন্যও ঝুঁকি থাকতে পারে।
ঘরোয়া উপায় নাকি বাজারের কীটনাশক, কোনটা ভালো?
ছোট সমস্যা হলে ঘরোয়া পরিচ্ছন্নতা, ফাঁদ আর সিলিং ভালো শুরু। বেশি হলে জেল বেইট বা পেশাদার ট্রিটমেন্ট বেশি কার্যকর হতে পারে।
তেলাপোকা নিয়ন্ত্রণে আসলে ধৈর্য, নিয়মিততা আর সঠিক জায়গায় কাজ করাটাই আসল। একদিনে সব শেষ না হলেও, উৎস বন্ধ করতে পারলে আপনি ঘরকে অনেকটাই নিরাপদ ও স্বস্তির রাখতে পারবেন।
