শোবার ঘর সাজানোর উপায়: আরাম, সৌন্দর্য আর ব্যবহারিকতার সহজ গাইড
নতুন বাসায় উঠেছেন, বা পুরোনো শোবার ঘরটা একটু গুছিয়ে আবার নিজের মতো করে সাজাতে চাইছেন—এমন অবস্থায় অনেকেই একসঙ্গে সব কিছু বদলাতে যান। ফলাফল হয় খরচ বেশি, ঘর ভিড়ভাট্টা, আর শেষে মনমতো আরামও মেলে না। শোবার ঘর সাজানোর সেরা উপায় হলো আগে ঠিক করা: আপনি ঘরটাকে কী কাজে ব্যবহার করবেন, কতটা খোলা রাখবেন, আর কোন জিনিসগুলো সত্যিই দরকার।

শোবার ঘর শুধু সুন্দর দেখালেই হয় না। এখানে ঘুম, বিশ্রাম, পোশাক রাখা, কখনও পড়াশোনা বা কাজ—সবকিছুর ভারসাম্য দরকার। তাই সাজানোর সময় “দেখতে কেমন লাগছে” আর “দৈনন্দিন ব্যবহার কতটা সহজ হচ্ছে”—এই দুই দিক একসঙ্গে ভাবতে হবে। নিচে ধাপে ধাপে এমন একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দিলাম, যা ছোট ফ্ল্যাট, সাধারণ ঘর, শেয়ার্ড রুম—সব ক্ষেত্রেই কাজে লাগবে।
আগে ঠিক করুন: ঘরটি কীভাবে ব্যবহার করবেন
শোবার ঘর সাজানোর আগে তিনটি প্রশ্নের উত্তর লিখে ফেলুন:
- ঘরটি শুধু ঘুমের জন্য, নাকি পড়াশোনা/কাজও হবে?
- ঘরে কতজন থাকবেন?
- আপনার অগ্রাধিকার কী—আরাম, স্টোরেজ, নাকি সাজসজ্জা?
এই তিনটি উত্তর ফার্নিচার, আলো, পর্দা, এমনকি রঙও ঠিক করতে সাহায্য করবে। উদাহরণ হিসেবে, যদি ঘরে একটি ছোট টেবিল রাখতে হয়, তবে বড় নাইটস্ট্যান্ড বা অপ্রয়োজনীয় ডেকর কমাতে হবে। আবার যদি ঘরটি শুধু ঘুমের জন্য হয়, তাহলে শান্ত রঙ, নরম আলো, আর খালি চলাচলের জায়গা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
একটি সহজ নিয়ম নিন: যে জিনিসটি প্রতিদিন ব্যবহার হবে না, সেটি প্রথমে কেনার তালিকায় রাখবেন না। এতে খরচও বাঁচে, ঘরও হালকা থাকে।
রঙের প্যালেট কীভাবে বাছবেন
শোবার ঘরের অনুভূতি অনেকটাই রঙের ওপর নির্ভর করে। নতুনদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো একটি প্রধান রঙ, একটি সহায়ক রঙ, আর একটি ছোট অ্যাকসেন্ট রঙ রাখা।
হালকা রং বনাম গাঢ় রং
- হালকা রং যেমন সাদা, অফ-হোয়াইট, হালকা বেইজ, হালকা ধূসর—ঘরকে বেশি খোলা, উজ্জ্বল, আর শান্ত দেখাতে সাহায্য করে। ছোট বা কম আলোযুক্ত ঘরে এগুলো সাধারণত ভালো কাজ করে।
- গাঢ় রং যেমন ডার্ক গ্রে, নেভি, গাঢ় সবুজ—ঘরকে উষ্ণ ও ঘনিষ্ঠ অনুভূতি দিতে পারে। তবে ছোট ঘরে চারদিকে গাঢ় রং দিলে ঘর ভারী লাগতে পারে।
বাস্তব সিদ্ধান্তের নিয়ম:
– ছোট ঘর হলে দেয়ালে হালকা রং রাখুন।
– একটি দেয়ালে গাঢ় বা গভীর রং ব্যবহার করতে চাইলে সেটিকে অ্যাকসেন্ট ওয়াল করুন।
– কম প্রাকৃতিক আলো থাকলে গাঢ় রং কম ব্যবহার করা ভালো।
যদি পুরো ঘর একরঙা করতে না চান, তাহলে দেয়াল হালকা রাখুন, আর বেডশিট বা কুশনে একটু গভীর রঙ আনুন। এতে ভারসাম্য থাকে।
আসবাব বসানোর আগে মাপ আর চলাচল ভাবুন
অনেকেই আগে ফার্নিচার কিনে পরে বুঝতে পারেন, ঘরে হাঁটার জায়গা কমে গেছে। তাই বিছানা, আলমারি, নাইটস্ট্যান্ড—এগুলোর অবস্থান আগে ভাবুন।
বিছানা কোথায় রাখবেন
সাধারণভাবে বিছানাটি এমন জায়গায় রাখুন, যাতে:
– দরজা খোলার পর বিছানায় সরাসরি ধাক্কা না লাগে,
– জানালা থেকে আলো আসে, কিন্তু ঘুমের সময় অতিরিক্ত ঝাঁপসা না করে,
– দুই পাশে চলাচলের সুযোগ থাকে, যদি ঘরের আকার তা অনুমতি দেয়।
ছোট ঘরে বিছানাকে একদিকের দেয়ালের কাছে রাখলে কিছুটা জায়গা বাঁচে। কিন্তু বিছানা এমনভাবে ঠেসে রাখবেন না যাতে উঠতে-নামতে অসুবিধা হয়।
আলমারি ও নাইটস্ট্যান্ড
- আলমারি এমন জায়গায় রাখুন যেখানে দরজা খুলতে অসুবিধা না হয়।
- নাইটস্ট্যান্ড বাধ্যতামূলক নয়। ঘর ছোট হলে দেয়াল-লাগোয়া ছোট শেল্ফ বা বিছানার পাশের পাতলা টেবিলই যথেষ্ট হতে পারে।
- যদি ঘরে বেশি জিনিস থাকে, তবে কমপ্যাক্ট কিন্তু উঁচু স্টোরেজ বেশি কাজে দেয়। এতে মেঝে তুলনামূলক খালি থাকে।
একটি বাস্তব সিদ্ধান্ত: যদি বিছানা, আলমারি, আর টেবিল একসঙ্গে রাখলে ঘর আটকে যায়, তাহলে প্রথমে টেবিল ছোট করুন, তারপর নাইটস্ট্যান্ড বাদ দিন। ঘুমের জায়গা আর চলাচলের স্পেস আগে বাঁচান।
বিছানা, চাদর, কুশন আর কার্পেট মিলিয়ে নিন
শোবার ঘরের সবচেয়ে চোখে পড়া অংশ হলো বিছানা। তাই এখানেই সাজসজ্জার ভারসাম্য তৈরি হয়।
সহজ রঙ-সমন্বয়
একটি নিরাপদ কম্বিনেশন হতে পারে:
– বেডশিট: হালকা বা নিরপেক্ষ
– কুশন কভার: একই পরিবারের একটু গাঢ় বা নরম টোন
– কার্পেট: দেয়াল বা বেডশিটের সঙ্গে মিলিয়ে শান্ত রঙ
উদাহরণ:
– অফ-হোয়াইট বেডশিট + ধূসর কুশন + হালকা বেইজ কার্পেট
– হালকা নীল বেডশিট + সাদা পর্দা + নরম ধূসর কুশন
খুব বেশি প্যাটার্ন একসঙ্গে ব্যবহার করলে ঘর ব্যস্ত দেখায়। যদি বেডশিটে ডিজাইন থাকে, তবে কুশন ও পর্দা তুলনামূলক সাদামাটা রাখুন। আর যদি বেডশিট একরঙা হয়, তখন কুশনে একটু টেক্সচার বা সূক্ষ্ম নকশা আনতে পারেন।
মিনিমাল ডেকর বনাম বেশি ডেকর
- মিনিমাল ডেকর ঘরকে শান্ত, গুছানো, আর পরিষ্কার দেখায়।
- বেশি ডেকর ঘরকে ব্যক্তিগত ও প্রাণবন্ত করতে পারে, কিন্তু ছোট ঘরে সহজেই ভিড় তৈরি করে।
যদি আপনি প্রতিদিন ঘর গুছাতে পছন্দ না করেন, তাহলে মিনিমাল স্টাইল বেছে নিন। কম জিনিস মানে কম ধুলো, কম বিশৃঙ্খলা, আর কম মানসিক চাপ।
পর্দা ও জানালার সাজ: আলো নিয়ন্ত্রণের সহজ উপায়
পর্দা শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়; এটি আলো, গোপনীয়তা, আর ঘরের মুডও ঠিক করে।
কোন ধরনের পর্দা ভালো
- হালকা, উজ্জ্বল পর্দা ছোট ঘরকে বড় ও পরিষ্কার দেখাতে সাহায্য করে।
- মোটা পর্দা আলো কমাতে ও ঘুমের পরিবেশ শান্ত করতে পারে।
- দুই স্তরের পর্দা ব্যবহার করলে দিনে আলো নিয়ন্ত্রণ আর রাতে গোপনীয়তা—দুটোই মেলে।
যদি আপনার ঘরে সকালবেলার আলো বেশি ঢোকে, তবে হালকা শেডের পর্দার সঙ্গে একটি ঘন পর্দা রাখা ব্যবহারিক হবে। আর যদি ঘর খুব অন্ধকার হয়, তাহলে গাঢ় পর্দা এড়িয়ে চলুন।
পর্দা, বেডশিট আর কুশনের রঙে সামান্য মিল থাকলে ঘর অনেক বেশি পরিপাটি লাগে। একেবারে একই রঙ না হলেও একই টোন-পরিবারে রাখুন।
লাইটিং পরিকল্পনা: আরাম আর কাজের জন্য আলাদা ভাবনা
একটি ঘর সুন্দর লাগলেও ভুল আলো থাকলে সেটি আরামদায়ক হয় না। শোবার ঘরে আলো তিনভাবে ভাবা ভালো: সাধারণ আলো, পড়া/কাজের আলো, আর নরম পরিবেশের আলো।
উষ্ণ আলো বনাম সাদা আলো
- উষ্ণ আলো ঘরকে নরম, আরামদায়ক, আর বিশ্রামমুখী অনুভূতি দেয়।
- সাদা বা উজ্জ্বল আলো পড়া, গুছানো, বা কাজের জন্য বেশি সুবিধাজনক।
যদি ঘরে শুধু একটি লাইটই থাকে, তাহলে এমন আলো নিন যা খুব কঠোর না লাগে। কিন্তু সম্ভব হলে একটাই আলোতে সব কাজ চাপাবেন না। বিছানার পাশে ছোট ল্যাম্প বা টেবিল লাইট থাকলে রাতের ব্যবহার সহজ হয়।
লাইট বসানোর সহজ নিয়ম
- সিলিং লাইটকে প্রধান আলো রাখুন।
- বিছানার পাশে নরম আলো দিন।
- কাজের টেবিল থাকলে সেখানে আলাদা উজ্জ্বল আলো রাখুন।
এতে ঘুমের সময় পুরো ঘর জ্বালিয়ে রাখতে হয় না, আবার প্রয়োজন হলে কাজও করা যায়।
ছোট শোবার ঘর বা শেয়ার্ড রুম সাজানোর কৌশল
ছোট ঘরে সবচেয়ে বড় ভুল হলো বড় ফার্নিচার আর বেশি ডেকর নিয়ে ফেলা। এমন ঘরে খোলা মেঝে, হালকা রঙ, আর কমপ্যাক্ট আসবাব বেশি কাজ করে।

ছোট ঘরের জন্য কী ভালো
- পাতলা বা কমপ্যাক্ট বিছানা
- দেয়াল-লাগোয়া শেল্ফ
- বেডের নিচে স্টোরেজ
- আয়না, যদি সঠিক জায়গায় থাকে
- কমপ্যাক্ট আলমারি
আয়না ছোট ঘরে ব্যবহার করলে আলো ছড়াতে সাহায্য করতে পারে এবং ঘর কিছুটা খোলা লাগতে পারে। তবে আয়না এমন জায়গায় রাখুন যেখানে বিশৃঙ্খলা প্রতিফলিত না হয়।
ছোট ঘরে আরও বাস্তবসম্মত কিছু মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচারের উদাহরণ:
– স্টোরেজ বেড: বিছানার নিচে ড্রয়ার বা লিফট-আপ স্টোরেজসহ
– ফোল্ডিং টেবিল: কাজ না থাকলে ভাঁজ করে রাখা যায়
– ওয়াল-মাউন্টেড শেল্ফ বা ড্রপ-লিফ ডেস্ক: মেঝে খালি রাখে এবং দরকারে ব্যবহার করা যায়
একটি ভুল ধারণা হলো ছোট ঘরে সবকিছু ছোট হলেই ভালো। আসলে ছোট, কিন্তু সঠিক অনুপাতে জিনিস বাছাই করা জরুরি। খুব ছোট ফার্নিচারও যদি অস্বস্তিকর হয়, তা ব্যবহারযোগ্য হবে না।
শেয়ার্ড রুমে কীভাবে সাজাবেন
শেয়ার্ড রুমে ব্যক্তিগত জিনিস কম, তবে সংগঠন বেশি দরকার। নিজের অংশে:
– একটি ছোট স্টোরেজ বক্স,
– ওয়াল শেল্ফ,
– আর সীমিত ডেকর রাখুন।
এতে আপনার জায়গা আলাদা বোঝা যায়, কিন্তু রুমও ভারী হয় না।
স্টোরেজ ও অগোছালোভাব কমানোর সহজ উপায়
ঘর যত সুন্দরই হোক, জিনিসপত্র ছড়িয়ে থাকলে সব নষ্ট হয়ে যায়। তাই স্টোরেজকে সাজসজ্জার অংশ হিসেবে ভাবুন।
কোথায় স্টোরেজ রাখবেন
- বেডের নিচে: কম ব্যবহৃত জিনিস
- আলমারির ভেতরে বক্স: ছোট জিনিস আলাদা রাখতে
- দেয়ালের শেল্ফ: বই, ঘড়ি, বা সীমিত ডেকর
- ড্রয়ার অর্গানাইজার: আন্ডারওয়্যার, চার্জার, ছোট গ্যাজেট
সবকিছু বাইরে রাখার বদলে “একটি জিনিসের একটি জায়গা” নীতি নিন। এতে প্রতিদিন গোছানো সহজ হয়।
কী কী বাদ দেবেন
- অতিরিক্ত কুশন
- ব্যবহার না করা ডেকর
- ভাঙা বা অপ্রয়োজনীয় ফার্নিচার
- বিছানার পাশে জমে থাকা কাগজপত্র
ঘর শান্ত দেখাতে হলে খালি স্পেসও দরকার। সব কোণ ভরিয়ে ফেললে ঘর ছোট, ভারী, আর ক্লান্তিকর লাগে।
ওয়াল ডেকর ও অ্যাকসেসরিজ কতটা রাখবেন
ওয়াল আর্ট, ছোট ফ্রেম, আয়না, বা একটি সুন্দর ঘড়ি—এসব ঘরকে ব্যক্তিত্ব দেয়। কিন্তু সংখ্যা বেশি হলে দেয়ালও ভারী লাগে।
কতটা যথেষ্ট
একটি দেয়ালে:
– একটি বড় ফ্রেম, অথবা
– দুই-তিনটি ছোট ফ্রেমের গ্রুপ, অথবা
– একটি আয়না
এর বেশি দিলে বিশেষ করে ছোট ঘরে চোখে বিশ্রাম কমে যায়।
যদি আপনি নরম, শান্ত ঘর চান, তাহলে ডেকর কম রাখুন। যদি ব্যক্তিগত গল্প দেখাতে চান, তাহলে কয়েকটি বাছাই করা জিনিস রাখুন—সব নয়।
কম বাজেটে শোবার ঘর সাজানোর বাস্তব উপায়
সবকিছু একসঙ্গে বদলাতে হবে না। অনেক সময় ছোট পরিবর্তনেই ঘরের চেহারা অনেকটা বদলে যায়।

কোথায় খরচ করলে বেশি ফল পাবেন
- বেডশিট বদলান
- পর্দা আপডেট করুন
- দুইটি কুশন কভার নিন
- একটি ছোট ওয়াল আর্ট বা আয়না যোগ করুন
- একটি নরম ল্যাম্প ব্যবহার করুন
এগুলো নতুন ফার্নিচারের মতো ভারী খরচ না বাড়িয়েও ঘরকে নতুন অনুভূতি দিতে পারে।
বাজেটে অগ্রাধিকার কী হবে
- আগে কিনুন: বেডশিট, পর্দা, আর প্রয়োজন হলে একটি ভালো ল্যাম্প
- পরে আপগ্রেড করুন: কুশন, ছোট ডেকর, ওয়াল আর্ট, স্টোরেজ বক্স
- এড়িয়ে চলুন: একসঙ্গে অনেক ছোট ডেকর, অপ্রয়োজনীয় থিম সেট, আর শুধু দেখানোর জন্য বড় ফার্নিচার
যদি বাজেট কম হয়, আগে টেক্সটাইল বদলান—বেডশিট, পর্দা, কুশন। কারণ এগুলো ঘরের সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান অংশ। পরে ধীরে ধীরে ডেকর ও স্টোরেজ যোগ করতে পারেন।
ধাপে ধাপে শোবার ঘর সাজানোর সহজ পরিকল্পনা
এখন পুরো প্রক্রিয়াটি একসঙ্গে ধরুন:
-
ঘরের ব্যবহার ঠিক করুন
শুধু ঘুম, নাকি কাজও হবে—এটি লিখে নিন। -
ঘরের মাপ ও চলাচল ভাবুন
ফার্নিচার বসালে হাঁটার পথ বন্ধ হবে কি না, আগে দেখুন। -
রঙের প্যালেট বাছুন
একটি প্রধান হালকা রং, একটি সহায়ক রং, একটি ছোট অ্যাকসেন্ট রং নিন। -
বড় ফার্নিচার ঠিক করুন
বিছানা, আলমারি, প্রয়োজনে টেবিল—এগুলো আগে বসান। -
বেডিং ও পর্দা মিলিয়ে নিন
বিছানা, কুশন, পর্দা, কার্পেটের মধ্যে টোনাল সামঞ্জস্য রাখুন। -
আলো বসান
এক স্তরের আলো না রেখে, সম্ভব হলে নরম ও কাজের আলাদা আলো রাখুন। -
স্টোরেজ যোগ করুন
যা বাইরে পড়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে, তা লুকানোর জায়গা বানান। -
শেষে ডেকর দিন
ফ্রেম, আয়না, ঘড়ি—বাছাই করে মাত্র কয়েকটি রাখুন।
এই ক্রমে কাজ করলে পরে জিনিস বদলাতে কম হয়।
বাস্তব উদাহরণ: ১০x১২ ফুট ঘর কীভাবে সাজাতে পারেন
ধরুন একটি ছোট ১০x১২ ফুট ঘর। এখানে আপনি যদি বড় আলমারি, মোটা বিছানা, দুই পাশে নাইটস্ট্যান্ড, আর অনেক ডেকর রাখেন, তবে ঘর ভারী লাগবে। এর বদলে আপনি করতে পারেন:
- দেয়ালে হালকা বেইজ রং
- সাদা বা অফ-হোয়াইট পর্দা
- একটি কমপ্যাক্ট বিছানা
- বিছানার পাশে একটি ছোট টেবিল
- উষ্ণ টেবিল ল্যাম্প
- দুইটি কুশন
- একটি ছোট ওয়াল আর্ট
এতে ঘর সহজ, শান্ত, আর ব্যবহারিক থাকবে। শেয়ার্ড রুম হলে একই কাঠামোতে আরও কম জিনিস রাখুন, আর স্টোরেজকে বেশি গুরুত্ব দিন।
সাধারণ ভুলগুলো যা ঘর ভারী দেখায়
কিছু ভুল বারবার দেখা যায়:
- একসঙ্গে অনেক রং ব্যবহার করা
- ঘরের মাপ না মেপে ফার্নিচার কেনা
- ছোট ঘরে বড় ও ভারী আসবাব রাখা
- খুব বেশি ডেকর দিয়ে দেয়াল ও মেঝে ভরিয়ে ফেলা
- আলো খুব কঠোর বা খুব কম রাখা
- পর্দা, বেডশিট, কুশনের মধ্যে কোনো মিল না রাখা
এসবের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর ভুল হলো খালি জায়গা না রাখা। ঘরকে নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গা দিন।
সমস্যা হলে কী করবেন
ঘর অন্ধকার লাগলে
হালকা পর্দা ব্যবহার করুন, আয়না যোগ করুন, আর উষ্ণ কিন্তু পর্যাপ্ত আলো দিন।
ঘর ছোট মনে হলে
ভারী ডেকর কমান, মেঝে খালি রাখুন, আর ফার্নিচার দেয়ালের কাছাকাছি গুছিয়ে বসান।
ঘর অগোছালো দেখালে
খোলা জিনিস কমান, স্টোরেজ বক্স ব্যবহার করুন, আর বিছানার ওপর অতিরিক্ত কুশন সরান।
ঘর খুব শীতল বা নির্জীব লাগলে
একটি নরম টেক্সচার, একটি উষ্ণ আলো, বা কাঠের টোন যোগ করুন।
নিরাপত্তা ও জটিল লেআউটে কী করবেন
যদি ঘরটি খুব ছোট হয়, অদ্ভুত আকৃতির হয়, বা আপনার ফার্নিচার বসানো নিয়ে বারবার সমস্যা হয়, তবে একজন হোম এক্সপার্টের পরামর্শ কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে স্থায়ী ফার্নিচার, বৈদ্যুতিক সংযোগ, বা দেয়ালে ভারী জিনিস বসানোর আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভালো।
শেষ পর্যন্ত, শোবার ঘর সাজানো মানে বড় বড় পরিবর্তন নয়—ঠিক জায়গায় ঠিক জিনিস রাখা। রঙ, আলো, পর্দা, স্টোরেজ আর কমপ্যাক্ট ফার্নিচার মিলিয়ে নিলেই ঘর আরামদায়ক, গুছানো, আর ব্যবহারযোগ্য হয়।
FAQ
শোবার ঘর সাজানো শুরু করব কোথা থেকে?
আগে ঘরটি কী কাজে ব্যবহার হবে তা ঠিক করুন। তারপর রঙের প্যালেট, বড় ফার্নিচার, আর আলো নির্ধারণ করুন।
ছোট শোবার ঘরের জন্য কোন রং ভালো?
হালকা, নিরপেক্ষ রং যেমন সাদা, অফ-হোয়াইট, বেইজ, বা হালকা ধূসর ছোট ঘরে সাধারণত ভালো কাজ করে।
ছোট ঘরে কোন ফার্নিচার বেশি কাজে লাগে?
স্টোরেজ বেড, ফোল্ডিং টেবিল, দেয়াল-লাগোয়া শেল্ফ, আর কমপ্যাক্ট আলমারি বেশি ব্যবহারিক।
কম বাজেটে শোবার ঘর নতুন দেখাতে কী করা যায়?
বেডশিট, পর্দা, কুশন কভার, আর একটি ছোট ল্যাম্প বদলালেই ঘরের লুক অনেকটা বদলাতে পারে।
শোবার ঘরে কতটা ডেকর রাখা উচিত?
যতটা রাখলে ঘর শান্ত ও খোলা থাকে, ততটাই। ছোট ঘরে কম ডেকরই সাধারণত ভালো।
ঘর গোছানো রাখতে কী অভ্যাস কাজে লাগে?
প্রতিটি জিনিসের নির্দিষ্ট জায়গা রাখুন, অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন, আর বিছানার চারপাশে খোলা স্পেস বজায় রাখুন।
রঙ, আলো, আর পর্দা কি একসঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া দরকার?
হ্যাঁ, পুরোপুরি একরঙা না হলেও একই টোন-পরিবারে রাখলে ঘর বেশি পরিপাটি লাগে।
শেয়ার্ড রুমে কীভাবে ব্যক্তিগত স্পেস তৈরি করব?
ছোট স্টোরেজ বক্স, সীমিত ডেকর, আর একটি আলাদা শেল্ফ বা সংগঠিত কর্নার ব্যবহার করতে পারেন।
